শুক্রবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশি চক্রের হাতে মার্কিন নাগরিক প্রতারিত, ৬০৮ কোটি টাকার মানি লন্ডারিংয়ের তথ্য ফাঁস

অপরাধ ডেস্কঃ

প্রকাশিত: শুক্রবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৫

মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা, হুন্ডি কার্যক্রম এবং স্বর্ণ চোরাচালানের মাধ্যমে প্রায় ৬০৮ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) একটি মামলা করেছেএ মামলায় এজাহারনামীয় ছয়জনসহ অজ্ঞাত ৫-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন মনীন্দ্র নাথ বিশ্বাস (৫০), ওয়াহিদুজ্জামান (৫২), মো. গোলাম সারওয়ার আজাদ (৫১), মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রিপন ফকির (৪৯), রাজীব সরদার (৩৭) ও উজ্জ্বল কুমার সাধু (৩৮)

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, প্রতারকচক্র মার্কিন নাগরিক ডেবোরাহ জন্সটন রামলো (ডেবি) এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলে এবং নিজেদের মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ২ লাখ ২২ হাজার মার্কিন ডলার আত্মসাৎ করেপরে ভুক্তভোগীকে চাপ দিয়ে অর্থ পাঠাতে বাধ্য করা হয় আমেরিকায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমেশিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বাংলাদেশে টাকা জমা দেন আসামিদের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে

অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করেছে

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে: আইনক্স ফ্যাশন (ইউসিবিএল), ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ (ঢাকা ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, এবি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ৪টি অ্যাকাউন্ট), জামান এন্টারপ্রাইজ (ব্র্যাক ব্যাংক), নোহা এন্টারপ্রাইজ (সাউথ-ইস্ট ব্যাংক)এছাড়া অভিযুক্ত মনীন্দ্র নাথ বিশ্বাসের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টেও বিপুল পরিমাণ অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে

সিআইডির অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রতারকচক্রটি ভাঙারি স্বর্ণ সংগ্রহ করে গলিয়ে সোনার বার তৈরি করে পাচার করতএসব সোনা মূলত সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হতো

প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, প্রতারণা, হুন্ডি ও স্বর্ণ চোরাচালানের মাধ্যমে অভিযুক্তরা প্রায় ৬০৮ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ৩৭২ টাকা অবৈধভাবে লেনদেন, স্থানান্তর ও ভোগ-বিলাসে ব্যবহার করেছেএছাড়া তারা নামে-বেনামে সম্পত্তির মালিক হয়েছে

এ ঘটনায় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছেসিআইডি জানিয়েছে, মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে

Share with friend