যাত্রাবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে, আনসার-অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারি সহ দালাল আর টাউট বাটপারে ভরা। এই দালাল চক্রদের হাতে সাধারণ মানুষ জিম্মি। দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে অবাক করা তথ্য, সাবেক আনসার সদস্যদের ভুয়া সত্যায়িত, ভুয়া চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট, ভুয়া নাগরিকত্ব সনদসহ সব কিছুই তারা টাকার বিনিময়ে বিতরণ করে পাসপোর্ট করিয়ে দেয়ার চুক্তি করে থাকে। চুক্তি অনুযায়ী সিন্ডিকেট বাহিনী কাজ করে থাকে। আঞ্চলিক ভাষায় একটা প্রবাদ আছে "বেড়া দিয়েছে ক্ষেত পাহারা দেওয়ার জন্য সরেজমিন দেখা যায় সেই বেড়াই পাহারার বদলে ক্ষেতের অস্তিত্ব বিলীন করে দিচ্ছে। পাসপোর্ট অফিসে দালাল ছাড়া পাসপোর্ট করা অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। যাত্রাবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালালকে ঘুষ না দিলে পাসপোর্ট ফিঙ্গারিং ও ডেলিভারী কোনটাই পাওয়া সম্ভব নয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব কিছুই নিয়ন্ত্রণ হয় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সকল কর্মকর্তাদের যোগসাজশে। এ চিত্র নিত্যদিনের সরেজমিনে অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, পাসপোর্ট অফিসের আশেপাশে কম্পিউটার আবেদনকারী দোকানীরা ছাড়াও পাসপোর্ট অফিসের দালাল হিসেবে সরাসরি কাজ করছেন আরমান, আনোয়ার, ওসমান, রহিম, সালাম, এরা সিন্ডিকেট করে পেট্রোল পাম্পের পাশে সেবাগ্রহীতাদের সাথে কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়া ব্যাক্তিগত ভাবে রেগুলার পাসপোর্ট ৯ হাজার টাকা দফা রফা করে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দালাল এবং গ্রাহকদের সাথে প্রকাশ্যে দেন দরবার করে থাকে। সূত্রে আরো জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রতিটি আনসার সদস্যই পাসপোর্টের দালাল হিসেবে সরাসরি জড়িত। উর্ধ্বতন মহল দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। বাহিরে কম্পিউটার দোকানীরা আরেকটি সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করে ভিতরের অফিসারদের হোয়াটসঅ্যাপে আবেদনের ছবি তুলে সরাসরি দালাল হিসেবে কাজ করে যা অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। পাসপোর্ট অফিসে আসা এক ব্যক্তির সাথে কথা হয়, তিনি জানান, সরাসরি আমরা আবেদন পত্র জমা দিতে গেলে ভিতরে একটার পর একটা অজুহাতে ভুল ধরে বার বার আবেদনপত্র সংশোধন করার জন্য চরম হয়রানির শিকার হওয়ার ভয়তে আমরা দালালের মাধ্যমে কোন প্রকার ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়া অতিরিক্ত মোটা অংকের টাকা দিয়ে পাসপোর্ট করতে হয়। জানা যায়, যাত্রাবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে উপ-পরিচালক এবং অফিসার মনির-রুম নাম্বার ৩০৬, গোলামুর-রুম নাম্বার ৩০২, মোস্তফা কামাল-রুম নাম্বার ৫০২, মামুন-রুম নাম্বার ৩০৬, আব্দুল খালেক -রুম নাম্বার ৪০৫ (ডিএডি) সহ অন্যান্য স্টাফদের অদৃশ্য যোগসাজশে বিগত দিনের আনসার সদস্যদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন বিশাল এক দালাল চক্র সিন্ডিকেট। গোপন সূত্রে জানা যায়, ঢাকার কেরাণীগঞ্জের পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে বেশ কিছু ফটোকপি কপি ও তেলের
পাম্পের দোকানের আড়ালে গড়ে উঠেছে একাধিক "মিনি পাসপোর্ট অফিস"। সরকারি প্রক্রিয়া এড়িয়ে সহজে পাসপোর্ট করার প্রলোভন দেখিয়ে এসব অবৈধ দোকান থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ অর্থে পাসপোর্ট তৈরি করে দিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র। আর এ কাজে সহযোগিতা করছেন পাসপোর্ট অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। দালালদের নেতৃত্বে রয়েছে আরমান হোসেন,
আনোয়ার হোসেন, মোঃ পাভেল, মোঃ আনারুল, সালাম, রহিমসহ অসংখ্য দালাল চক্র। দালাল চক্রের হোতা আরমান বিগত দিনে শাহীন চেয়ারম্যানের নাম ভাঙ্গিয়ে তাঁতী লীগের পদপদবী নিয়ে এই সিন্ডিকেট পরিচালনায় রাম-রাজত্ব করেছিলেন। তাঁতীলীগের দাপট আর দালাল সিন্ডিকেটের ক্ষমতাবলে মানুষের দোকান দখল, হুমকি, ধামকি দিয়ে আসছেন। দল পরিবর্তনের পর
আরমান আবার টাকা পয়সা দিয়ে অন্য রাজনৈতিক দলের সাথে সমন্বয় করে দালালীতন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। আরমানকে দেখলে মনে হবে যেন কোন পীর কামেলের মাজার পাহাড়ায় ব্যস্ত। কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন এক চিত্র তার কার্যক্রমে। তিনি হচ্ছেন যাত্রাবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের চিহ্নিত তালিকাভুক্ত দালাল। তার দোকানটি পাসপোর্ট অফিসের উল্টো দিকে পেট্রোল পাম্পের পিছনে
সংলগ্ন কয়েকটি কম্পিউটার দোকান যেমন ভিশন কম্পিউটার দোকান, পরিচালক আরমান হোসেন। তারা প্রতিদিনের ন্যায় দোকানে বসে পাসপোর্ট লিপিবদ্ধ করে আসছিলো। একপর্যায়ে তাদেরকে হাতে নাতে পাসপোর্টের ফাইলপত্রসহ ধরা হলে এবং তাদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় সরকারি ফাইল তো কর্মকর্তাদের সিল স্বাক্ষর করা এগুলো তো পাসপোর্ট অফিসের হেফাজতে থাকার কথা।
কিন্তু এগুলো আপনাদের হাতে কেন? তারা এ বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। তাহলে বোঝাই যায় দালালচক্র কতটা শক্তি ও দাপট নিয়ে এ কার্যক্রম দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায় সরকারি ফাইল তৈরি করে তারা পাসপোর্ট অফিসের বাইরে মিনি পাসপোর্ট অফিস হিসেবে এই চক্র লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর এসবের নেপথ্যে আছে পাসপোর্ট অফিসের একাধিক কর্মচারি। তাদের সরাসরি সহযোগিতায় এসব দালালরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে সরকারি ফাইল নিজেদের জিম্মায় রেখে এসব অবৈধ কাজ করে যাচ্ছে। এ অফিস থেকে প্রতিদিন ঢাকা সহ আশেপাশের মোট ১৩ টি থানার বাসিন্দাদের নতুন পাসপোর্ট করা ও নবায়নসহ এ সম্পর্কিত সব সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে এই অফিস থেকে ৭ শত এর কম বেশি পাসপোর্ট ফিঙ্গারিং করে থাকে তাতে প্রতিদিন অবৈধ ভাবে ৫ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র। জানা যায়, এসব পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে সক্রিয় রয়েছে বিশাল দালাল চক্র, যার নেতৃত্ব দিচ্ছে আরমান হোসেন নামের এক দালাল।
যাত্রাবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে আসা মোঃ সোলেমান জানান, আমি পাসপোর্ট করতে এলে দালাল চক্রের সদস্য আরমান, আনোয়ার তারা টানাটানি শুরু করে দেয়। এক দালাল দৌড়ে এসে বলে ভাই ২ হাজার টাকা দিলেই হবে, লাইনে দাড়াতে হবে না, বা কোনো ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হবে না। আমাদের সঙ্গে পাসপোর্ট অফিসের বসদের সাথে চুক্তি আছে। আমাদের লোক নিয়ে গেলে লাইনে দাঁড়াতে হয় না আমরা কন্ট্রাক্টে কাজ করে থাকি। আমাদের ফাইলে নির্দিষ্ট সংকেত দেয়া থাকে, এজন্য অফিসাররাও সে ফাইল আটকায় না। এছাড়া আমরা নিয়মিত থানা পুলিশকেও ম্যানেজ করে চলি, আমাদের কেউ বাধা দেয় না।