শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে দালাল সাকের ও ইউপি মেম্বার নাছিমা খাতুনের বিরুদ্ধে

খবরটিভি ডেস্কঃ

প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

যশোর জেলার বিদেশগামী দশ জন নিরীহ মানুষেদের ২৬ লক্ষ টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ কারার জন্য পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে দালাল সাকের ও চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার ৯ নং ডাউকি ইউনিয়নের হাউসপুর ১,২,৩ সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার মোছাঃ নাছিমা খাতুনের বিরুদ্ধে।


অনুসন্ধানে জানাযায় ২০২২ সালে যশোর জেলার বিদেশগামী দশ জন নিরীহ মানুষেদের সাকের ও রাজ বাড়িতে খাবারের আয়োজন করে দাওয়াত দিয়ে তাদেরকে ব্রনাই পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। ব্রুনাই পাঠানোর কথা বলে দিনমজুর খেটে খাওয়া নিরীহ দশ জনের নিকট থেকে ২৬ লক্ষ টাকা যশোর, ঝিনাইদহ, এবং তার নিজ গ্রাম থেকে সর্বমোট ১ কোটি বিশ লক্ষ টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে দালাল সাকের ও রাজ। এবং মেডিকেলের কথা বলে কয়েক দফায় নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। দশ জনকে ব্রুনাইয়ের ভিসা দিয়ে আদনান মেডিকেলে মেডিকেল টেস্ট করানোর পরে সাকের ও রাজ পুনরায় ভুক্তভোগীদের কাছে টাকা চাইলে দিতে অপারগতা পোষণ করলে তাদের গালাগালি করে। প্যাসেন্জারদের মনে সন্দেহ হলে ব্রুনাইয়ের এ্যাম্বাসিতে যাচাই করলে জানতে পারে ভিসা ভুয়া। এবং আদনান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেডিকেলের বিষয় জানতে চাইলে ডায়াগনস্টিক এর ম্যানেজার মোঃ রুবেল বলেন মেডিকেল সম্পুর্ন ভুয়া। আমাকে সাকের ও রাজ বলেছে মেডিকেলের নামে বায়োমেট্রিকে ফিঙ্গার করে ব্রেন ওয়াশ করতে প্রতিজনের থেকে ৫৫০০ টাকার ভিতরে আমি প্রতিজন থেকে ৫০০ টাকা রেখেছি আর সাকের ও রাজ মিলে প্রতিজন থেকে ৫০০০ টাকা নিয়েছে। এ বিষয়ে দালাল সাকেরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন রাজ আমাকে ভিসা গুলো দিয়েছে এগুলো পাতা ভিসা আমিও জানি ভিসা গুলো ভুয়া তারপরও তাদের মনে সান্ত্বনা দিতে দিয়েছি এবং মেডিকেল টেস্ট ও ভুয়া ছিল। এবং রাজ বলেন এগুলো পাতা ভিসা আর মেডিকেল টেষ্ট ও ভুয়া ছিল। ভুক্তভোগীরা তাদের টাকা ফেরত চাইলে সাকের টাকা ফেরত দিবেনা বলে ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকদের গালিগালাজ করে। ভুক্তভোগীরা নিরুপায় হয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানায় অভিযোগ দায়ের করে। সাকের ভুক্তভোগীদের টাকা ১মাসের ভিতরে ফেরত দেয়ার শর্তে সবাইকে চেক ও স্ট্যাম্পে লিখিত দেয় তাতে সাকেরের স্ত্রী, তার ছোট ভাই, ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, এবং ইউপি মেম্বার নাছিমা খাতুন জিম্মাদার হিসেবে সই করেছে। সাকেরের কাছে পাওনা টাকা ভুক্তভোগীদের পরিশোধ করে দিবে মর্মে ইউপি মেম্বার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থানা থেকে সাকেরকে নিয়ে যায়। তরপর থেকে সাকের মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন করে দেয় যাতে সাকেরের সাথে ভুক্তভোগীরা যোগাযোগ করতে না পারে। মেম্বার নাছিমার কাছে সাকেরের মোবাইল নাম্বার চাইলে সে নাম্বার না দেয়ার জন্য ছলচাতুরী করে, বলে তার সাথে দেখা হয়না মোবাইল বন্ধ করে রেখেছে। তার লাগবেনা আমি সাকের আমি আপনাদের সকল টাকা দিয়ে দিব। অথচ সাকের প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে ৩ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে মেম্বারের দোকানে কেরামবোর্ড খেলতে আসে, দোকান বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মেম্বারের সাথে আড্ডা দিতে থাকে মেম্বারের সাথে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। ১০ জুলাই টাকা দেয়ার কথা থাকায় ভুক্তভোগীরা ঢাকা ও যশোর থেকে ইউপি মেম্বারের বাড়িতে গেলে মেম্বার জানায় আপনাদের টাকা আমি দিব তবে আজ দিতে পারবোনা আগামী ৪৫ দিন পরে আসেন (ভিডিও আছে)।


এভাবে তারিখের পর তারিখ মাসের পর মাস কালক্ষেপণ করে ৫ মাস অতিবাহিত করছে। ভুক্তভোগীদের কে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ করছেনা এবং টাকা আত্মসাৎ করার জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে ইউপি মেম্বার। সাকের নিরীহ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানাধীন বিনোদপুর গ্রামে বানিয়েছেন বিশাল আকারের ১তলা বিল্ডিং, কিনেছেন জমি ও ইউপি মেম্বারের মেয়ে বিয়ে দেয়ার জন্য দিয়েছে টাকা। সাকেরের বস রাজ গ্রামে তাকে জব্বার নামে চিনে ঢাকায় এসে নাম দিয়েছে রাজ, গত আড়াই বছর পূর্বে ছিল গাজীপুর এলাকার একজন গার্মেন্টস কর্মী। রাজের বড় ভাই মালেশিয়া থাকা কালীন  রাজের মাধ্যমে কিছু লোক জোগাড় করে মালেশিয়া নিয়ে যাওয়ার সুবাদে রাজের শুরু হয় আদম ব্যাপারীর ব্যাবসা, সেখান থেকে রাজের আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বিদেশে লোক পাঠাতে পারুক আর না পারুক গ্রামের জব্বার ঢাকার রাজ আদমের টাকা দিয়ে কিনেছেন বিলাসি প্রাইভেট গাড়ী, রেখেছেন ড্রাইভার, ঢাকায় থাকেন দামী ফ্লাটে, গ্রামে বানিয়েছেন গ্রামের সেরা তিন তলা বিশাল আকারের বাড়ি। তথ্য অনুসন্ধানের জন্য ভুক্তভোগীরা ও সাংবাদিকেরা রাজের বাড়িতে গেলে রাজ ফোনে সাংবাদিকদের হুমকি প্রদান করে।  এদিকে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে চড়া সুদে বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা নিয়ে সে টাকা পরিশোধ করতে না পারার কারনে তাদের নামে হয়েছে মামলা। তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের পরিবারে অসুস্থ রোগীকে পারছেনা চিকিৎসা করাতে, ছেলে মেয়েদের পারছেনা ঠিকমত লেখাপড়া করাতে, পারছেনা ঠিকমত খাওয়াতে খুবই কষ্টে অনাহারে দিনাতিপাত করছে প্রতিটি পরিবার। এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

Share with friend