সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

কালীগঞ্জে স্বর্ণের লোভে তৃতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে হত্যা, গণপিটুনিতে ঘাতক নিহত

মামুন বিল্লাহ (কালিগঞ্জ) সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

দোকানে ঝাল মুড়ি কিনতে গেলে কানে স্বর্ণের দুল দেখে লোভ সামলাতে না পেরে ফারজানা সুলতানা (৯) নামে  তৃতীয় শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করে পাশে বাড়িতে নিয়ে বেঁধে রেখে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। খোঁজ পেয়ে উত্তেজিত জনতা ঘাতক সুমাইয়া খাতুন নামে ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২০ জুলাই) রাত ৯ টার দিকে সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা কাশিবাটি গ্রামে। নিহত স্কুলছাত্রী কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী ও কাজলা কাশিবাটি গ্রামের আব্দুল লতিফের কন্যা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহত স্কুল ছাত্রী সকালে স্কুলে গিয়ে ক্লাসরুমে ব্যাগ রেখে সামনে সুমাইয়ার ঝাল মুড়ির দোকানে যায় ঝাল মুড়ি কিনতে। ওই সময় ফারজানার কানে দু,টি  স্বর্ণের দুল দেখে লোভ সামলাতে না পেরে প্রথমে মুখ চেপে ধরে অপহরণ করে পাশের তার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে স্কুলছাত্রী ফারজানার  হাত পা বেঁধে ওয়ারড্রপের মধ্যে লুকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে তাকে জবাই করে হত্যা করে ওয়ারড্রপের মধ্যে রেখে দেয়। এদিকে সুমাইয়ার কোন খোঁজ না পেয়ে বাবা মা সহ পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী এলাকায় মাইকিং সহ সাংবাদিকদের শরণাপন্ন হয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিখোঁজের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সন্ধ্যা ৭ টার দিকে এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে ঝাল মুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়ার ঘর তল্লাশি করতে গেলে বাধা দেয়। ওই সময় পুলিশের উপস্থিতিতে উত্তেজিত জনতা ঘর তল্লাশি করে ওয়ার ড্রপের মধ্যে লুকিয়ে রাখা গলাকাটা স্কুল ছাত্রী ফারজানার লাশ দেখতে পায়। কি খবরে হাজার হাজার উত্তেজিত জনতা ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়াকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে লাশ দু,টি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম জানান হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। এলাকায় বর্তমান চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Share with friend