জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ১০ তলা বিশিষ্ট ছয়টি নতুন হল চালু হওয়ায় আবাসিক সুবিধার পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মোট ২১টি আবাসিক হলে শিক্ষার্থীরা সমান সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষা শাখার তথ্য অনুযায়ী, এসব হলে আসন সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৭৯টি, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। ফলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
এ বছর ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৮৮৮ শিক্ষার্থীর জন্য শতভাগ আবাসন বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানান শিক্ষা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সদস্যসচিব সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা। তিনি বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দ নিয়ে কোনো জটিলতা হয়নি। সবাই নিজেদের আসনে উঠতে পেরেছে, যা আমাদের জন্য আনন্দের।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ১০ তলা বিশিষ্ট হলগুলোতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রতিটি হলে রয়েছে লিফট ব্যবস্থা, ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা, পাঠাগার, কমনরুম, খাবার ঘর, ক্যান্টিন, ওয়াই-ফাই সংযোগ, আধুনিক স্যানিটেশন সুবিধা। এসব সুবিধার কারণে শিক্ষার্থীরা শুধু সিটই পাচ্ছেন না, বরং নিরাপদ ও অনুকূল আবাসন পরিবেশ পাচ্ছেন।
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী সাবিদ আবদুর রহমান জানান, আমি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে সিট পেয়েছি। আগে শুনতাম জাবি পুরোপুরি আবাসিক, আজ তা নিজে অনুভব করতে পারছি। ভর্তি হয়েই সিট পাওয়া আমার জন্য সৌভাগ্যের।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা দীর্ঘ সময় নিশ্চিত হয়নি। গত কয়েক দশকে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, যার বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রশাসনিক ও সামাজিক সহযোগিতায় শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। আমরা চাই ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক।