ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ওয়ারী। ওয়ারীর মধ্যে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে যাত্রাবাড়ী থানা। এই থানা এলাকায় জনবসতি বেড়ে উঠায় অপরাধীদের বিচরণও বাড়ছে। ওসি কামরুজ্জামান আসার পরে নড়েচড়ে বসেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। কারণ, মাদকের বিরুদ্ধে এক রকম জিহাদ ঘোষণা করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার ওসি। তিনি আরো বলেছেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি বা মাদকসেবীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, এলাকার যুবসমাজকে রক্ষায় মাদক কেনাবেচা বা সেবনের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “মাদক আমাদের সমাজের জন্য একটি নীরব ঘাতক। আমি দায়িত্ব নিয়েছি এবং আমার প্রথম কাজের অগ্রাধিকার হচ্ছে মাদক মুক্ত যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা গড়ে তোলা।
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার এই সময় মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা হয় আত্মসমর্পণ করুক, নয়তো কঠোর আইনি ব্যবস্থার সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুক। আমার প্রশাসন মাদকের শেকড় উপড়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর।” তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতি আহ্বান জানান—একযোগে এই সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে। তিনি আরও জানান, থানার অধীনস্থ প্রতিটি এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে।
ওসি কামরুজ্জামান সকল নাগরিককে আহ্বান জানান “মাদকের তথ্য গোপনে পুলিশকে দিন, পরিচয় গোপন রাখা হবে।”
তিনি আরও বলেন, খুব শিগগিরই থানা এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হবে। এই অভিযানে সাদা পোশাকে পুলিশ নজরদারি বাড়াবে এবং স্কুল-কলেজের আশেপাশে বিশেষ টহল দল মোতায়েন করা হবে, যাতে যুবসমাজ মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা পায়।
ওসির এই কঠোর অবস্থানের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা আশা করছেন, ওসির উদ্যোগে এলাকা দ্রুতই মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।