যশোরের চৌগাছায় জমির দলিল সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চাপাতি ও হাসুয়ার কোপে দুই ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আলী হাসানের দুই হাতে ও আঙুলে মোট ২৮টি সেলাই এবং মোমিনুর রহমানের বাম হাতের আঙুলে ৩টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে। হামলায় পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া এক নারীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যশোরের চৌগাছা উপজেলার মশ্রশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শামীনুর রহমান (৩৮) চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে প্রতিবেশী হারুন হোসেন (৩৭), মোঃ রাকিব হোসেন (২৬), হাওয়া খাতুন (৩০) ও হাসিনা বেগম (৪৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমিজমা ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে শামীনুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে ঘটনার দিন সকালে বসতবাড়িতে জমির দলিল নিয়ে কথা-কাটাকাটির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হারুন হোসেন শামীনুর রহমানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করতেই অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শামীনুরের চিৎকার শুনে তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন তাঁর বড় ভাই আলী হাসান (৪৫), মেজো ভাই মোমিনুর রহমান (৪০), বড় ভাইয়ের স্ত্রী খাদিজা বেগম (৩৫) ও স্ত্রী দীপা খাতুন (৩০)। কিন্তু হামলাকারীরা তাঁদের ওপরও চড়াও হন। এ সময় এলোপাতাড়ি মারধরে পরিবারের সদস্যরা আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে হারুন হোসেনের হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে আলী হাসানকে এবং রাকিব হোসেনের হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে আলী হাসান ও মোমিনুর রহমানকে কোপানো হয়। এতে তাঁরা গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।
ঘটনার পর যশোর সদর হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আলী হাসানের ডান হাত ও বাম হাতের আঙুলে মোট ২৮টি সেলাই দিতে হয়েছে। অপর আহত মোমিনুর রহমানের বাম হাতের আঙুলে দিতে হয়েছে আরও ৩টি সেলাই। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁদের এমন গুরুতর জখমের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে শামীনুর রহমানের অভিযোগ, হামলার সময় তাঁর স্ত্রী দীপা খাতুনের গলায় থাকা আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন হারুন হোসেন এবং কানের স্বর্ণের দুল হাওয়া খাতুন ছিনিয়ে নেন।
পরে আহতদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর আহতদের যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় বলে জানা গেছে। এ সময় অভিযুক্তরা তাঁদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শামীনুর রহমান জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ স্থানীয়ভাবে মীমাংসার একাধিক চেষ্টা করেও কোনো সমাধান হয়নি। সর্বশেষ এ হামলার ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ঘটনায় চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে সংযুক্ত করা হবে।