প্রায় একযুগ ধরে মোবাইল যোগাযোগ এড়িয়ে চলছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মূলত ২০১৫ সালে এনএসএর হুইসেলব্লোয়ার এডওয়ার্ড স্নোডেন বিশ্ব নেতাদের ফোনে আড়ি পাতার ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এবার পুতিনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টিও খোলাসা করলেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সংস্থা তাসকে তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট চালু করার পরিকল্পনা করছেন না প্রেসিডেন্ট পুতিন। বরং ক্রেমলিনের অফিসিয়াল চ্যানেলগুলোর মাধ্যমেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিত থাকছেন তিনি ।
পেসকভ জানান, তবে পুতিন নিজে ব্যক্তিগতভাবে এতে যুক্ত হতে চান না, কারণ আগেও বহুবার বলেছেন, এটা তার পছন্দের বিষয় নয়।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র আরও জানান, নিয়মিতভাবে পুতিনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চলতি প্রবণতা সম্পর্কে অবহিত করেন ক্রেমলিনের কর্মীরা। এমনকি অনলাইনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনেরাও তার সঙ্গে আলোচনা করেন।
এর আগে, ইন্টারনেটে সময় কাটানোর 'অনাগ্রহ' স্পষ্ট করে ২০১৭ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন- নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি। এছাড়া অবসর সময়ে পেলেই শরীরচর্চা এবং সংগীত শোনা, খেলাধুলা ও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে পছন্দ করেন । ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করার সময়ই নেই তার।
ব্যক্তিগতভাবে মোবাইল ফোন এড়িয়ে চলার জন্য বেশ পরিচিত প্রেসিডেন্ট পুতিন। তার সমর্থকরা মনে করেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মূলত নজরদারি থেকে বাচাঁতেই মোবাইল যোগাযোগে সতর্কতা অবলম্বন করেন পুতিন। ২০১৫ সালে এনএসএর হুইসেলব্লোয়ার এডওয়ার্ড স্নোডেন ফাঁস করা নথিতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র তৎকালীন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলসহ বিদেশি নেতাদের ফোনে আড়ি পাতা হয়েছিল। এরপর থেকেই মোবাইলসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে আরও বেশি সতর্কতা পালন করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।