রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মো. আজহারুল ইসলাম নামে এক রেলওয়ের TLR স্টাফের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাহজানপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে মামলা নং-১/২০২৬।
মামলা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে আজহারুল ইসলাম অভিযুক্তদের বাসার পেছনে একটি আম গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা সন্দেহ করে যে তিনি নিজে অথবা শিশুদের দিয়ে আম পাড়াচ্ছেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা প্রথমে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। পরে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে তার পেট ও পিঠে আঘাত করা হয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহত মো. আজহারুল ইসলাম (২৬) ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার বিরাশি গ্রামের মৃত আসমত আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির এ/১৫ নম্বর বাসায় সপরিবারে বসবাস করছেন।
ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম এসেছে মো. বাবু (৪০)-এর। এছাড়া ফৌজিয়া (৪৫), সীমান্ত (১৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা সবাই রেলওয়ে কলোনি এলাকার বাসিন্দা।
আহতের বড় ভাই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে শাহজাহানপুর থানা-এ মামলা দায়ের করেছেন। তিনি বলেন,
“আমার ভাইকে বিনা অপরাধে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
এ বিষয়ে শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর থেকে রেলওয়ে কলোনি এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।